কুমিল্লা প্রতিনিধি, চ্যানেল নিউজ : কুমিল্লার বুড়িচংয়ে চাঞ্চল্যকর প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভাড়াটে কিলার দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী ফেরদৌসীকে খুন করা হয়। কিলিং মিশনে অংশ নেয় ৪ জন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে লাশ গুম করে ঘাতকরাই ফেরদৌসীকে খোঁজাখুঁজি করে এবং স্বজনদের সঙ্গে আর্তনাদে অংশ নেয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এবং এর কারণ বের করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল হক।
পুলিশ জানায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমকে হত্যা করা হয়। ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘাতকরা প্রথমে মাটি খুঁড়ে লাশ পুঁতে রাখে। পরে রাত ২টায় তারা আবার গোপন বৈঠক করেন। এতে পরিকল্পনা অনুযায়ী লাশ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়; কিন্তু তাকে হত্যার সময় কিছু রক্ত ছিটকে গাছের পাতার মধ্যে লেগে থাকে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিল্লা ডিবির একটি টিম সেই গাছের রক্তের ছিটা থেকেই তদন্ত শুরু করে। পরে মোবাইল টেকনোলজির মাধ্যমে সন্দিগ্ধ ঘাতক চিহ্নিত করা হয়। এরপর অভিযানে একে একে বেরিয়ে আসে ৪ ঘাতকের নাম।
এ ঘটনায় নিহত ফেরদৌসীর ছেলে ইকরামুল হাসান বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর বুড়িচং থানা পুলিশ প্রথমে নিহত প্রবাসীর স্ত্রীর জা নুরজাহান বেগমকে আটক করে। পরে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- দক্ষিণগ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫০), একই গ্রামের মো. সোলাইমান ওরফে তনু মিয়ার ছেলে আনোয়ার (৩০), মমতাজ উদ্দিনের ছেলে রুবেল আহমেদ মিন্টু (৩১) ও খোরশেদ আলমের ছেলে মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন জিল্লু (২৭)।
সূত্র জানায়, ফেরদৌসী বেগম নিখোঁজের পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজিসহ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এরপর মঙ্গলবার সকাল ৮টায় স্থানীয়রা বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে একটি নির্জন বাগানের সেপটিক ট্যাংকে বস্তাবন্দি লাশের সন্ধান পেয়ে বুড়িচং থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।
Leave a Reply