ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা সোহরাব মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঠালকান্দি গ্রামে প্রতিশোধের আগুনে পুড়ছে বাড়িঘর, চলছে অবাধ লুটপাট।
গ্রেপ্তার এড়াতে এবং পাল্টা হামলার ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। নারী ও শিশুদের নিয়ে গ্রাম ছেড়েছে শতাধিক পরিবার। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, কারও ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। গ্রামজুড়ে এখন কেবলই নারী ও শিশুদের হাহাকার আর পোড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ।
গত শনিবার (৫ জুলাই) মোল্লা গোষ্ঠী ও উল্টা গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হন চাতলপাড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহরাব মিয়া (২৬)। এ ঘটনার পর থেকেই পুরো ইউনিয়নে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে শুরু হয় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের পথে পথে ছড়িয়ে আছে ভাঙা কাচ, পোড়া টিন আর লণ্ডভণ্ড আসবাবপত্র। কয়েকটি বাড়িতে তখনও ধোঁয়া উড়ছে।
অসহায় সাফিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, মোল্লা গোষ্ঠীর লোকজন আমার ঘরটা পুড়িয়ে দিল। আমার সব শেষ।”
অন্তঃসত্ত্বা কুহিনূর বেগম বলেন, “আমি অসুস্থ। আমায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গলা থেকে স্বর্ণালংকার লুট করে ঘরে থাকা সবকিছু নিয়ে গেছে। এমনকি আমার ওষুধগুলোও নিয়ে গেছে। বারবার অনুরোধ করার পরও আমার হাত-পা বেঁধে রেখে চলে যায়।”
সংঘর্ষ ও প্রাণহানির প্রভাব পড়েছে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায়। কাঠালকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এখন অনুপস্থিত।
শুধু ঘরবাড়িই নয়, হামলাকারীদের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পায়নি চাতলপাড় বাজারের দোকানপাট ও এর মধ্যে চালের আড়ত, মোবাইল ও বিকাশের দোকান এবং রড-সিমেন্টের দোকান ও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দোকানগুলো থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। হামলাকারীরা ১০টি গরু নিয়েগেছে বলে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দির মোল্লা গোষ্ঠী ও উল্টা গোষ্ঠী মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে
মোল্লা গোষ্ঠীর গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, তাদের গোষ্ঠীর অন্তত পাঁচজনের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৪০টির বেশি বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়েছে। হামলা থেকে রক্ষা পায়নি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও জাসাসের নেতাদের বাড়িঘরও।
এদিকে, নিহতের ভাই মোজাহিদ মিয়া ভাইয়ের হত্যার বিচার চেয়েছেন এবং নিহতের মা ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। প্রতিপক্ষের বাড়িতে লুটপাটে নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন নিহতের বড় ভাই।
চাতলপাড় ফাঁড়ি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের জনবল কম এবং যাতায়াতের সুবিধা নেই। তাই লুটপাটের সময় নিহতের স্বজনরা টেঁটা-বল্লম নিয়ে পাহারা দেওয়ায় আমাদেরও নিরাপত্তা নেই, তবুও আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিনা
নাসিরনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানায়,ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য প্রমান বিশ্লেষণ করে মামলাটি এফ আই আর কারা হবে যাতে কোন সাধারণ মানুষ হয়রানি শিকার না হয় এবং মামলা প্রক্রিয়া দিন রয়েছে বলে জানায়
Leave a Reply