ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি, চ্যানেল নিউজ : শারীরিক প্রতিবন্ধী ৩ ফুট উচ্চতার মোহাম্মদ ফরহাদ মিয়া ও আড়াই ফুটের আরিফা দম্পতি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন। তাদের নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরই প্রেক্ষিতে ফরহার দম্পতিকে সরকারি জায়গায় একটি কনফেকশনারি তৈরি করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে ফরহাদ ও আরিফার হাতে সেই দোকানের চাবি হস্তান্তর করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়ার খর্বাকৃতির ফরহাদ মিয়া পেশায় রুপার চেইনের কারিগর। গত দেড় বছর আগে আরেক খর্বাকৃতির আরিফাকে বিয়ে করেন ফরহাদ। বিয়ের পর তাদের দুজনকে আলাদা করে দেন পিতা মন মিয়া। আরেকজনের জায়গায় বছরে ৭ হাজার টাকা চুক্তি ভাড়াতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেছেন তারা দুজনের মধ্যে চলছে সুখের সংসার। ভালবাসা কমতি নেই তাদের। কিন্তু সংসারে দেখা দিয়েছে অভাব অনটন। রুপার গহনা কারিগর ফরহাদ প্রতি চেইনে মজুরী হিসেবে পেতেন ১৩ টাকা। তার সাথে গহনা তৈরিতে সহযোগিতা করতেন স্ত্রী আরিফা। প্রতিদিন গড়ে ১৫/১৬ টা চেইন তৈরি করতে পারতেন এই দম্পতি। কিন্তু দিন দিন শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ফরহাদ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশি চেইন তৈরি করতে পারতেন না। প্রতিদিন গড়ে ৭/৮টি চেইন তৈরি করতে পারতেন তারা। সেই অনুযায়ী তার দৈনিক আয় ছিল ১০৪ টাকা। এছাড়াও প্রতিবন্ধী ভাতায় তিন মাস পর পর পান ২৫৫০ টাকা। কিন্তু দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই অর্থে দুজনের এই সংসার চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থ কষ্টে ভুগছেন ফরহাদের সংসার।

এই দম্পতিকে নিয়ে টিভি ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসনের। জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূইয়াকে তাদের বিষয়টি দেখতে। এই নির্দেশনার পর পর ইউএনও প্রাথমিক অবস্থায় তাদেরকে অর্থ সহায়তা দেন। নিজে উদ্যোগ নেন এই খর্বাকৃতির দম্পতিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে সদর উপজেলার উলচাপাড়া গ্রামে রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের পাশে তাদের জন্যে সরকারি জায়গায় একটি কনফেকশনারি তৈরি করে দেওয়া হয়। সোমবার প্রধান অতিথি থেকে এই দোকান ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।
এ সময় তার সাথে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূইয়া, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাজিল্লুর রহমান রাশেদ, রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দোকানের চাবি আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তের পর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিবন্ধী ফরহাদের দোকান থেকে মালামাল ক্রয় করেন।
এসময় জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান সাংবাদিকদের বলেন, জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, এটি একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শারীরিকভাবে খাটো হওয়ায় সমাজে তারা অনেক সময় স্বাভাবিক কাজের সুযোগ পান না, অনেকেই তাদের কাজে নিতে আগ্রহ দেখান না। সে কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহের একটি ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আমাদের ইউএনও অত্যন্ত সুন্দরভাবে তাদের জন্য একটি দোকান করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় যদি আর্থিকসহ কোনো ধরনের অতিরিক্ত সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন তাদের পাশে
Leave a Reply