একটি পাঠক সংগঠনের উদ্যোগে এ লাইব্রেরির উদ্বোধন করা হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। নিজ উদ্যোগেই আলমীরা কেনার জন্য অর্থ দেন সৌদি প্রবাসী আখাউড়া রাধানগরের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আখাউড়া প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।
সন্ধ্যা পৌণে সাতটায় রেলওয়ে স্টেশনের ভিআইপি কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিক ও রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন। এ সময় আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া, স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট মো. নুরুন্নবী, রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম, জুটন বনিক, সাধারন সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ভূঁইয়া, রিপাটার্স ইউনিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জলিল, সাধারন সম্পাদক মো. রাসেল আহমেদ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন মিশু, সাধারন সম্পাদক জোনায়েদ হোসেন পলক, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম সাগর, মো. হাবিবুর রহমান, বাদল আহম্মেদ খান, মো. ময়নুল হোসেন, আশীষ সাহা, মো. ইসমাইল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ফিতা কেটে উদ্বোধন শেষে হওয়া আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু। এ সময় সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ও সাংবাদিক আশীষ সাহা ঘোষণা দেন যে, এবারের বই মেলা থেকে কিছু বই এনে লাইব্রেরিতে রাখবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্টেশন সুপারিনটেন্ডেন্ট নুরুন্নবী ভূঁইয়া বলেন, ‘ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত কেউ সময় পেয়ে যদি স্টেশনে বসে বই পড়েন তাহলে এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে।’ রেলওয়ে স্টেশনে এমন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তিনি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এক কথায় বলবো যে আমি পুলকিত। এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সত্যিই এ ধরণের কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা সবাই মিলে এ লাইব্রেরির খেয়াল রাখবো, যতœ নিবো।’
প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া বলেন, ‘এ ধরণের উদ্যোগ আখাউড়ার সম্মান বৃদ্ধি করেছে। এমন আয়োজনের উপস্থিত হতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি মনে করি এ উদ্যোগটি সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়া দরকার।’
উদ্বোধনের পর পরই স্টেশনে গিয়ে লাইব্রেরি দেখে উদ্যোগের প্রশংসা করেন আখাউড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ। মুগ্ধ হয়েছেন জানিয়ে জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মুনসুর মিশন বলেন, ‘এটা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। এ ধরণের সামাজিক উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। বিএনপি নেতা ইয়ার হোসেন শামীম বলেন, ‘আমাদের উচিত এ ধরণের কাজে সহযোগিতা করা।’ এছাড়া যুবদল নেতা জাবেদ আহমেদ ভূঁইয়া, জহর লাল চৌহানসহ আরো অনেকেই লাইব্রেরির উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি নিজ উদ্যোগেই লাইব্রেরির জন্য একটি আলমীরার টাকা দিতে বলেছি। আমার মনে হয় এমন উদ্যোগ সারাদেশে উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তো আসলে গল্প, উপন্যাসের বই পড়তে ভুলেই গেছি। বাস্তবতা যখন এই তখন স্টেশনে লাইব্রেরি স্থাপনের বিষয়ে সত্যি খুব প্রশংসার দাবি রাখে। বিষয়টি জেনে আমার কাছে খুব ভালো লাগছে।’
Leave a Reply