ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, চ্যানেল নিউজ : সংরক্ষিত নারী আসনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট জেসমিন আক্তার বলেছেন, সংসদে গিয়ে নারীদের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে চান তিনি। তাঁর মতে, সংরক্ষিত নারী আসন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে নারীদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জেসমিন আক্তার বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সংরক্ষিত নারী আসন শুধু একটি রাজনৈতিক পদ নয়, বরং এটি নারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সংসদে গিয়ে নারীদের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করতে চাই।”
তিনি তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “২০০৬ সালে আমার ভাই অ্যাডভোকেট হাবিবুল্লাহ রাজপথে রক্ত ও প্রাণ দিয়েছেন। সেই ত্যাগ আমার রাজনৈতিক চেতনা ও অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস।”
সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই এ আন্দোলন সফল হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা তৈরি হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। সংসদে যেতে পারলে এ ধরনের বিভাজন রুখে দিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি শুধু নারীদের নয়, শ্রমিক, প্রবাসীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধি হতে চাই। তাদের সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরার এবং সমাধানের জন্য কাজ করব।”
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে জেসমিন আক্তার জানান, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এখনো দলটির আদর্শ ধারণ করে চলেছেন। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নারীদের পক্ষে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। মানবাধিকার কর্মী হিসেবেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, “আমি ইতোমধ্যে মনোনয়ন ফরম পূরণ করে নির্ধারিত জামানত জমা দিয়েছি। এটি সম্পূর্ণরূপে অফিসিয়াল ফি এর সঙ্গে কোনো ধরনের অনৈতিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা নেই।”
শেষে তিনি বলেন, “দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। দেশের মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি ও প্রেরণা।”
Leave a Reply